ছোটদের ভুতের গল্প চিলে কোঠার বন্ধুত্বপূর্ণ ভূত
চিলে কোঠার বন্ধুত্বপূর্ণ ভূত
প্রাচীন এক নগরীতে পুরানো বাড়িতে ক্যাসপার নামে একটি
বন্ধুত্বপূর্ণ ভূত ছিল। তিনি বাড়ির ছাদের চিলে কোঠায় বাস করতেন। ক্যাসপারের হৃদয়
ছিল অনেক বড় এবং তিনি শিশুদেরকে অনেক ভালবাসতেন, তাদের সাথে
খেলতে ও তাদেরকে হাসাতে পছন্দ করতেন। কারো ক্ষতি হোক সে কখনোই চাইতো না।
চাঁদনি রাতে আকাশে চাঁদ উঠলে, ক্যাসপার চিলে কোঠা
থেকে বেরিয়ে আসত। তিনি বাচ্চাদের ঘরে ভেসে ভেসে যেতেন, তার সাথে একটি নরম, উষ্ণ আলো আনতেন।
তিনি বাচ্চাদের আনন্দ দেয়ার জন্য তাদের সাথে লুকোচুরি খেলতেন, হাসানোর জন্য
বিভিন্ন রকম মুখের আকৃতি তৈরি করত এবং বাচ্চাদেরকে তার প্রতি আকর্ষিত করার জন্য
নানা ধরণের শব্দ তৈরি করতেন যাতে শিশুরা খিল খিল করে হাসতো।
ক্যাসপার ছোট ছেলে-মেয়েদের
বিভিন্ন ধরণের যাদুর খেলা দেখাতেন, যাতে শিশুরা
মুগ্ধ হয়, তাদের আনন্দে সময় কাটে। ক্যাসপার ছোট বাচ্চাদের
তার নিজের সম্পর্কে বলতেন, তাদেরকে রূপকথার গল্প বলে
স্বপ্নের রাজ্যে নিয়ে যেতেন। সেখানে রাজকুমার-রাজকুমারী থাকতো, রাক্ষস থাকতো।
একদিন রাতে, অংশু নামের একটি
ছোট ছেলে জিজ্ঞেস করল, "ক্যাসপার, তুমি বন্ধুত্বপূর্ণ ভূত কেন?" তিনি উত্তর দিলেন, "কারণ আমি বিশ্বাস
করি যে ভালবাসা হল এই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী যাদু।" ভালবাসা দিয়ে সমস্ত
কিছু জয় করা যায়। ভালবাসা দিয়ে আনন্দ লাভ করা যায়। তোমাদেরকে আনন্দ দিয়ে আমিও
আনন্দ পাই, তোমাদের ভালোবাসা পাই। তোমাদের ভালবাসি বলেই তোমরা আমাকে
ভালবাসো, আমার সাথে খেলা করো। আমি যদি তোমাদেরকে ভয় দেখাতাম
তাহলে তোমরা আমার বন্ধু হতে না, আমাকে ভালোবাসতে না, কেবল ভয় পেতে। আমি বিশ্বাস করি তোমরাও তোমাদের উদারতা দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে এই পৃথিবীকে আরো সুন্দর করে তুলবে এবং তোমাদেরকেও সবাই
সমানভাবে ভালবাসবে। এভাবেই ক্যাসপার সবার হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল। সবার ভালোবাসার
স্মৃতি হয়ে সেরা বন্ধু হয়ে উঠেছিল।

কোন মন্তব্য নেই