ছোটদের ভুতের গল্প (কাজ পাগল ভুত)
কাজ পাগল ভুত
![]() |
একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করত এক কৃষক, সে একদিন তার ক্ষেতে ফসল ফলানোর উদ্দেশ্যে লাঙল দিয়ে জমি চাষ দিতে গিয়ে অনেক ক্লান্ত হয়ে পরেছিল তাই তার জমির পাশেই থাকা এক বিশাল আকৃতির গাছের নীচে ছায়াযুক্ত জায়গায় একটু বিশ্রামের জন্য বসে জল পান করছে এবং নিজে নিজেই বলছে। ইস্ আর পারছি না, আমার কাজগুলো যদি কেউ একটু করে দিত তাহলে হয়তো নিরিবিলিতে একটু বিশ্রাম নিতে পারতাম। এমন সময় কৃষক যে গছের নীচে বিশ্রাম নিচ্ছিল সেই গাছে এক ভুত বাস করত সে ছিল কাজ পাগল, সে কৃষকের মনের কথা শুনে ফেলল এবং নীচে নেমে এসে কৃষককে বলল দাও কাজ দাও। কৃষক হঠাৎ দেখে চমকে গেলেও আলাপের মাধ্যমে জানতে পারল যে, সে একটি ভুত, এই গাছেই বসবাস করে এবং সে কৃষকের কাজগুলো করে দিতে চায়। কৃষক সব শুনে মনে মনে খুশি হলো এবং ভাবলো ভালোই হলো একটু জিরিয়ে নেয়া যাবে তাই সে ভুতকে বলল তুমি আমার চাষের ক্ষেতটাকে একটু কুপিয়ে দাও যাতে আমি ভালোভাবে শষ্য বুনতে পারি।
ভুত
কৃষকের কাজ
করতে চেল
গেল, কৃষক
ভাবলো একটু
বিশ্রাম নেয়া
যাক, এই
ভেবে যেই
সে চোখ
বুজলো অমনি
ভুত এসে
হাজির বলল,
তোমার কাজ
শেষ দাও
নতুন কাজ
দাও। কৃষকতো
অবাক এতো
তারাতারি কিভাবে
সম্ভব তাই
সে তার
ক্ষেতের দিকে
গিয়ে দেখলো
সত্যিই কাজ
হয়ে গেছে।
যা কৃষক
নিজে করলেও
কয়েক দিন
লেগে যেতো।
তাই সে
ভুতকে ধন্যবাদ
জানিয়ে চলে
যেতে বলল
কিন্তু ভুত
কৃষকের কাছে
নতুন কাজ
চাইল। কৃষক
ভেবে পাচ্ছিল
না কি
কাজ দেয়া
যায় এদিকে
ভুত নাছোরবান্দা সে শুধু কাজ চাইছে কৃষকের
আর বিশ্রাম
নেয়া হচ্ছে
না। অনেক
ভেবে কৃষক
এবার ভুতকে
একটা জায়গার
ঠিকানা দিয়ে
বলল যে,
তার এই
জমিতে পুকুর
কেটে দিতে।
ভুত
চলে গেল
তার কাজে,
কৃষক পূর্বের
ন্যায় যেই
সে চোখ
বুজলো বিশ্রাম
নিতে, অমনি
ভুত এসে
হাজির বলল,
তোমার কাজ
শেষ দাও
নতুন কাজ
দাও। কৃষকের
বিশ্বাস হলো
না। সে
গিয়ে দেখলো
সত্যিই পুকুর
কাটা হয়ে
গেছে। এখন
কৃষকের বিশ্রামতো
দুরের কথা
সে পরে
গেল মহা
বিপাকে সে
ভাবলো এই
ভুতকে কিভাবে
তার কাছ
থেকে ছাড়ানো
যায় তাই
সে বুদ্ধি
করে বলল
তুমি এক
কাজ করো
আমার ছোনের
তৈরি বসবাসের
বাড়ি রাজপ্রাসাদ বনিয়ে
দাও এবং
সেখানে বিভিন্ন
দেশ থেকে
বিভিন্ন রকমের
দামি দামি
আসবাবপত্র এনে
আমার বাড়ি
সাজিয়ে দাও।
এই কথা
শুনে ভুত
চলে গেল
কৃষক পুনরায়
চোখ বুজলো
এবং ভাবলো
এবার সম্ভব
হবে না
কেননা বিভিন্ন
দেশ থেকে
আসবাবপত্র আনা
এতো সহজ
হবে না।
আর এই
ফাকে সে
অনেকটা বিশ্রাম
নিতে পারবে
কিন্তু তার
চিন্তা ভাবনা
সম্পূর্ণ ভুল
প্রমানিত হলো।
ভুত যথারীতি
একটু পরেই
এসে হাজির,
বলল তোমার
কাজ হয়ে
গেছে এবং
পূর্বের ন্যায়
কাজ চাইলো,
কৃষকের অবস্থা
এখন “ছেড়ে
দে মা
কেঁদে বাচি”
কি করবে
কিছুই ভেবে
পাচ্ছিল না,
এদিকে নাছোরবান্দা ভুত কিছুতেই পিছু
ছাড়ছে না।
কৃষক যতই
বলছে আর
কাজ নেই
পরে কাজ
হলে তোমাকে
বলবো ভুত
ততোই বলছে
কাজ দাও,
কাজ দাও।
কোন
উপায় না
পেয়ে কৃষক
দৌড়ে পালাচ্ছে
আর ভুত
পিছু পিছু।
যেতে যেতে
কৃষক এক
গাছ তলায়
এক সাধুকে
দেখতে পায়
তাকে গিয়ে
সব খুলে
বলে। সাধু
একটু ভেবে
তাকে চিন্তা
না করার
জন্য আশ্বাস
দেয় এবং
সেখানে কাজ
পাগল ভুত
এসে উপস্থিত
হলে সাধু
ভুতকে বলে
তুমি কাজ
করতে চাও?
উত্তরে ভুত
হ্যা সুচক
উত্তর দেয়।
তখন সাধু
দুরে একটি
কুকুরকে দেখিয়ে
বলে যাও
ঐ কুকুরের
লেজটা বাঁকা
আছে ওকে
সোজা করে
আসো তোমাকে
নতুন কাজ
দেব। ভুত
চলে যায়
এবং যতবারই
কুকুরের লেজ
টেনে সোজা
করে ছেড়ে
দেয় ততবারই
লেজ পুনরায়
বাকা হয়ে
যায়। এবার
ভুত পরে
গেলে বিপাকে
কিছুতেই কুকুরের
লেজ সোজা
করতে পারছে
না। এক
পর্যায়ে ক্লান্ত
হয়ে সাধুকে
এসে বলে
যে এ
কাজে সে
অপারগ তাই
সে কৃষক
ও সাধুর
কাছে ক্ষমা
চায়। সাধু
তাকে কৃষকের
পিছু ছাড়তে
বলে এবং
তার নিজের
জায়গায় ফিরে
যেতে বলে।
ভুত সাধুর
কথা মতো
তার নিজ
জায়গায় ফিরে
যায় এবং
কৃষক পরবর্তীতে
নিজের কাজ
নিজেই করতে
থাকে।

কোন মন্তব্য নেই